Recents in Beach

ব্রেকিং নিউজ

কলাতলীতে অবৈধ স্থাপনা: প্রশাসন কি আসলেই উচ্ছেদ করতে পারবে?


একদিনের সময়, এরপর উচ্ছেদের ঘোষণা—৪.৫০ একর সরকারি জমিতে নির্মাণাধীন ১৯ দোকান

বিশেষ প্রতিবেদকঃ

কক্সবাজার শহরের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকা কলাতলীতে সরকারি জমি দখল করে নির্মাণাধীন অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে একদিনের সময় দিয়েছে জেলা প্রশাসন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিজ উদ্যোগে স্থাপনা অপসারণ করা না হলে বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান চালানোর ঘোষণা দিয়েছে প্রশাসন। তবে অতীতে সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে একাধিক অভিযান হলেও নতুন করে দখলের অভিযোগ ওঠায় প্রশ্ন উঠেছে—প্রশাসন কি এবার সত্যিই পুরোপুরি উচ্ছেদ করতে পারবে, নাকি নোটিশেই সীমাবদ্ধ থাকবে অভিযান?

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, কলাতলীতে প্রায় ৪ দশমিক ৫০ একর সরকারি জমি দখল করে একটি চক্র স্থাপনা নির্মাণ করছে। এরই মধ্যে সেখানে অন্তত ১৯টি দোকানের নির্মাণকাজ চলছিল। দ্রুত দোকানগুলো হস্তান্তরের জন্য দিন-রাত নির্মাণকাজ চালানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এর আগে একই এলাকায় আরও প্রায় ২০টি দোকানঘর মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ভাড়া দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

সরকারি জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর তা জেলা প্রশাসনের নজরে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার সংশ্লিষ্টদের নামে নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশে সরকারি জমিতে নির্মিত ও নির্মাণাধীন স্থাপনা নিজ উদ্যোগে অপসারণের জন্য ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়েছে, সরকারি জমিতে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ আইনগতভাবে অপরাধ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্থাপনা সরিয়ে না নিলে উচ্ছেদসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নোটিশ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ব্যক্তি কামরুল। তিনি বলেন, নোটিশ পাওয়ার পর স্থাপনা নির্মাণের কাজ বন্ধ রয়েছে। বুধবার বিকেলের মধ্যে সব স্থাপনা নিজ উদ্যোগে সরিয়ে নেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসনীম জাহান বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে না নিলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, বিষয়টি জেলা প্রশাসনের পর্যবেক্ষণে রয়েছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে এবং নির্মাণাধীন মার্কেটটি এক দিনের মধ্যে নিজ উদ্যোগে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বাতিলকৃত সরকারি প্লটে যেকোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ সম্পূর্ণ বেআইনি। বর্তমানে ওই জায়গা সরকারের। সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে।

আগেও হয়েছে বড় উচ্ছেদ

কলাতলীর ঘটনাটি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন কক্সবাজারের পর্যটন এলাকার সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে জেলা প্রশাসনের একাধিক অভিযান ইতোমধ্যে আলোচনায় এসেছে।

এর আগে গত ১৭ আগস্ট শহরের পর্যটন জোনের সুগন্ধা এলাকায় প্রায় ৩ একর সরকারি খাস জমিতে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে দখলমুক্ত করে জেলা প্রশাসন। প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সূত্রের হিসাবে, ওই জমির বাজারমূল্য প্রায় ২০০ কোটি টাকা।

এ ছাড়া ২০২৫ সালের ৪ জুন সুগন্ধা এলাকায় সাচ্চিদানন্দ সেন গুপ্ত নামের এক ব্যক্তির দখলে থাকা ২ দশমিক ৩৯ শতক সরকারি জমি দখলমুক্ত করে প্রশাসন। ওই অভিযানে প্রায় ১১০টি দোকান গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। চারপাশের টিনের ঘেরাওও উচ্ছেদ করা হয়। উচ্ছেদ হওয়া জমির মূল্য কয়েকশো কোটি টাকা বলে জানা গেছে।

উচ্ছেদের পরও দখল কেন?

সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে প্রশাসনের অভিযান থাকলেও একই এলাকায় নতুন করে দখল ও স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ ওঠায় কার্যকর নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে পর্যটন নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে সরকারি জমির বাণিজ্যিক ব্যবহার ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ রয়েছে।

কলাতলীর ৪ দশমিক ৫০ একর জমিতে নির্মাণাধীন ১৯টি দোকান এবং আগে ভাড়া দেওয়া আরও ২০টি দোকানের অভিযোগের সত্যতা কতটা—তা তদন্ত করে দেখার দাবি উঠেছে। পাশাপাশি সরকারি জমিতে কারা কীভাবে স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ পেলেন এবং নির্মাণের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে বিষয়টি কেন আসেনি, সেটিও খতিয়ে দেখার বিষয়।

এখন মূল প্রশ্ন—নোটিশের ২৪ ঘণ্টা শেষ হওয়ার পর প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়।

অবৈধ স্থাপনা সত্যিই উচ্ছেদ করা হলে সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় এটি হবে প্রশাসনের দৃশ্যমান পদক্ষেপ। আর উচ্ছেদ অভিযান না হলে ২৪ ঘণ্টার নোটিশ কতটা কার্যকর ছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে।

কলাতলীর সরকারি জমি ঘিরে এখন তাই স্থানীয়দের পাশাপাশি পর্যটন সংশ্লিষ্টদেরও নজর—প্রশাসনের ঘোষণা কি বাস্তবে উচ্ছেদ অভিযানে রূপ নেয়, নাকি অবৈধ স্থাপনা আবারও টিকে যায়?


Post a Comment

0 Comments