কয়েক ঘণ্টা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ| এই সময়ে সঠিক চিকিৎসা না পেলে সংক্রমণ, অঙ্গহানি কিংবা মৃত্যুঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়| একটু ভাবুন তো, একজন দরিদ্র দগ্ধ রোগীকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেয়া হলো, তারপর রেফার করা হলো এরপর চট্টগ্রাম বা ঢাকায় যাওয়ার প্রস্তুতি| এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় কতটা সময় হারিয়ে যায় কত পরিবার পথে নিঃস্ব হয় কত জীবন হয়তো বাঁচানো যেত, যদি জেলাতেই একটি মানসম্মত বার্ন ইউনিট থাকত একটি আধুনিক বার্ন ইউনিট চালু হলে কয়েকটি বিষয় নিশ্চিতভাবে বদলে যাবে| প্রথমতো, দগ্ধ রোগীরা তাৎক্ষণিক বিশেষায়িত চিকিৎসা পাবেন| দ্বিতীয়ত, স্থানীয় জনগণ ও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হবে| তৃতীয়ত, চট্টগ্রাম ও ঢাকার বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ কমবে| আর সবচেয়ে বড় কথা, অগ্নিদগ্ধজনিত প্রাণহানি ও স্থায়ী পঙ্গুত্বের হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে|
কক্সবাজার শুধু একটি জেলা নয়; এটি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত একটি অঞ্চল, সারা বছর এখানে বিদেশি ভ্রমণপিপাসু ও কর্মজীবী নাগরিকের বসবাস থাকে| এখানে লাখো মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা জড়িত| তাই মানবিক, প্রশাসনিক এবং জনস্বার্থের দিক থেকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ বার্ন ইউনিট স্থাপন আর বিলাসিতা নয়— এটি এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি| এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপই পারে বহু সম্ভাব্য প্রাণহানি রোধ করতে| সিদ্ধান্তটি আজ নিলে আগামীকাল তার সুফল পাবে পুরো জেলা| এখন প্রয়োজন সদিচ্ছা, সমন্বয় এবং দ্রুত উদ্যোগের|
0 Comments